মশাল মিছিলের ঘটনায় পুলিশের মামলা

কর্ণহার থানার সামনে মশাল মিছিল, মামলায় গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ এএম আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম ৩১ বার পঠিত
কর্ণহার থানার সামনে মশাল মিছিল, মামলায় গ্রেপ্তার ৩

কর্ণহার থানার সামনে মশাল মিছিল, মামলায় গ্রেপ্তার ৩

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
০৪ সেপ্টে ২০২৬
রাজশাহীর কর্ণহার থানার সামনে সদ্য পদত্যাগ করা এক তাঁতী দল নেতা ও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মশাল মিছিল এবং বিক্ষোভের পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের কাজে বাধা দানের অভিযোগে পুলিশের করা একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি করা হয়। এতে আসামি হিসেবে ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে তারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কর্ণহার থানায় বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা তাঁতী দলের সদ্য পদত্যাগ করা সাংগঠনিক সম্পাদক সাদমান সাকিব। এলাকায় তিনি এখন ছাত্রদলকে সংগঠিত করছেন। তবে ছাত্রদলে তার কোনো পদ নেই। বিক্ষোভ চলাকালে সাদমান সাকিব বলেছিলেন, ২৮ আগস্ট মধ্যরাতে তার কর্মী নাজমুল ও রেফাজুল তাকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যান। এরপর দুজন মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। শিশাপাড়া ঈদগাহের সামনে কর্ণহার থানা পুলিশের একটি দল তাদের থামিয়ে দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় পুলিশ তার নাম শুনে আপত্তিকর মন্তব্য করে বলেও তার অভিযোগ। পরদিন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ওই রাতে পুলিশ সাদমান সাকিবকে চিনতে না পারার কারণে থানার সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল করা হয়। এই বিক্ষোভের দুদিন পর পুলিশ ২৮ আগস্ট রাতের ঘটনায় মামলা করে। এ মামলায় শিশাপাড়া গ্রামের ছাত্রদলকর্মী নাজমুল হোসেন, সরিষাকুণ্ডি গ্রামের মো. রানা ও মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়। নাজমুল হোসেনের বোন নীরা খাতুন জানিয়েছেন, পুলিশ তার ভাইকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে বাড়ি থেকে আটক করে। পরে রাতে পুলিশ মামলা করে। আটকের ২৪ ঘণ্টা পর তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। নাজমুলসহ তিনজনকে আদালতে তুলতে শুক্রবার দুপুরে থানা থেকে করা হয়। থানা থেকে গাড়ি ছাড়ে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার থেকেই পালিয়ে আছেন সাদমান সাকিব। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুলিশের হয়রানি এড়াতে অনুসারীরা তাকে সরিয়ে রেখেছেন। তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। সাদমান জানান, ২৮ আগস্ট রাতে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হওয়ার সময় শুধু নাজমুল ও রেফাজুল ছিলেন। কিন্তু আসামি করা হয়েছে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে। থানার সামনে বিক্ষোভের সময় জনি ব্যানারের সামনে ছিলেন। তাই তাকে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর রানাকে আটক করা হয়েছে বৃহস্পতিবার দুপুরে। নাজমুলকে আটক করা হয় সকালে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুজাহিদ নামে তার আরও এক কর্মীকে ধরতে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। তাকে না পেয়ে তার চাচার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। পুলিশ এ বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আটকের ২৪ ঘণ্টা পর নাজমুলকে আদালতে তোলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদ করে নাম-ঠিকানা জানতে হয়। আটক সকালে হলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে রাতে, মামলা হওয়ার পর। তাই এটা নিয়ে কোনো অসুবিধা নাই।’ ২৮ আগস্টের ঘটনায় পাঁচ দিন পরে মামলা কেন জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ওই তো, নাম-ঠিকানা জানতে সময় লাগে।’ বিক্ষোভের সঙ্গে এই মামলার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও ওসি দাবি করেন। বলেন, মধ্যরাতে পুলিশ আইন অনুযায়ী তল্লাশি করতে গেলে তারা পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। এ জন্য মামলা হয়েছে। থানার সামনে সাদমান সাকিবের বিক্ষোভের পরদিন হুজরিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি এ বিষয়ে সভা করে। সভায় ছিলেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ। তিনি জানান, সাদমান সাকিব ব্যক্তি রাজনীতি করেন। সেদিনের কর্মসূচি ছিল তার ব্যক্তিগত। তাই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে এ বিষয় দল কোনো দায় নেবে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।